তারা সবাই আবরারেরই প্রতিচ্ছবি

Share this


আবরারের মৃত্যুর জন্য 'আড়িপাতা' আর ছেড়ে যাওয়া হলো না। দেশের বাইরে ছিলাম একমাস, ফিরে আসি অক্টোবরের ৩ তারিখ গভীর রাতে... ভেবেছিলাম একটা পোষ্ট দিয়ে গ্রুপ লিভ করবো।






এরমধ্যে জেটল্যাগ কাটতে না কাটতে হঠাৎ ৬ই অক্টোবর আবরারের এই মমর্মান্তিক মৃত্যুর খবর। কয়েকদিনের জন্য চিন্তা শক্তিও লোপ পেয়ে গেল। দিন রাত সারাদিন আড়িপাতার সব পোস্ট আতিপাতি করে পড়ি... ছেলেমেয়ে দেশের বাইরে থাকে ওদের সাথেও ঠিক মত কথা বলার সময় হয়না।






একটার পর একটা ছেলের ঘটনা পড়ি আর শিউরে উঠি... কিভাবে সম্ভব!! এসবের কিছুই জানতাম না। আসলে পাশ করার পরে আমার বা আমার হাসবেন্ডের বুয়েটের সাথে আর তেমন কোন সম্পর্কই ছিলো না। দরকার পড়েনি। তেমন একটা যাওয়াও হয়নি।





অক্টোবরের ৯ তারিখে গেলাম বুয়েটে আবরারের জন্য সমাবেশ ডাকা হয়েছিল, তাতে সাড়া দিয়ে। আসলে আমি সুযোগ খুঁজছিলাম বুয়েটে যাওয়ার। খুব অস্থির লাগছিলো, পাগলের মত লাগছিলো চিন্তা করে... একটা ছেলে, যে তাদের সহপাঠী, তাকে মেরে ফেললো কিভাবে? বিশ্বাস হচ্ছিল না। কেবল মনে হচ্ছিল ওখানে কি হচ্ছে একটু দেখে আসি।
জানি কিছু করতে পারব না তারপরও।





ভয় পাচ্ছিলাম আমার হাসবেন্ড হয়তো আমাকে আটকাবে কারন আমি বুয়েটে পড়ার সময় কখনো কোন মিটিং, মিছিল বা সমাবেশে যোগ দেইনি। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম বুয়েটে যাওয়ার কথায় বারন না করে বললো... তুমি যাও সমস্যা নাই।
ছেলেমেয়েদের বললো - তোমাদের আম্মু একদম পাগল হয়ে যাচ্ছে, তোমরা একটু বুঝাও।
ওরা বুঝায় - বিশেষ করে মেয়ে বলে - তুমি ত এখন আর কিছু করতে পারবা না। তুমি ঐগুলা আর পড়ো না।





আমি তারপরও লুকিয়ে লুকিয়ে পড়ি আর কাদি। যাই হোক... ৯ তারিখে বুয়েটে যাওয়ায় কারেন্ট স্টুডেন্টরা তার পরপরই অনেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দেয় এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো তখন বেশির ভাগের প্রফাইল পিকচারেই আবরারের ছবি ছিলো। আমি তাদের সবাইকে একসেপ্ট করি। শেষের দিকে কোন বাছবিচার না করে শুধু আবরারের ছবি ওয়ালা প্রফাইল দেখলেই একসেপ্ট করেছি।





তারা সবাই আমার কাছে আবরারেরই প্রতিচ্ছবি। আমার কাছে তাদের আলাদা কোন পরিচয় নাই। সবাই আবরার। আমি মাঝে মাঝে ইনবক্সে ওদের সাথে কথা বলি। আমি দোয়া করি এবং মনেপ্রাণে চাই আমাদের আবরাররা সবাই যেন ভালো থাকে আর একজন আবরারও যেন অকালে হারিয়ে না যায়।





সবার কাছে একটাই প্রার্থনা যার যার জায়গা থেকে সবাই ওদেরকে বাঁচান!
আভা/ স্থাপত্য'৮৫