৯ অক্টোবর, ২০১৯

Share this


আন্দোলনের তৃতীয় দিন। আগেরদিন (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভিসি স্যার আবরার হত্যার প্রায় চল্লিশ ঘন্টা পর প্রথমবারের মত শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হন। তিনি কোন প্রশ্নের সদুত্তর না দিয়েই বুয়েট ত্যাগ করেন। সবার মধ্যে ক্ষোভ জমা হতে থাকে। এই ক্ষোভকে পুঁজি করেই ৯ তারিখ সকাল থেকেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করে। সকাল থেকেই ভিসি স্যারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও উনার কোন হদিস পাওয়া যায় নি। ছাত্র-ছাত্রীরা বুয়েটের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেয়, স্লোগানে মুখরিত হতে থাকে চারপাশ। এরপর আবরারের বন্ধুরা প্রথমবারের মত মিডিয়ার সামনে এসে ৬ অক্টোবরের ভয়াল রাতের বর্ণনা দেয়। নির্যাতনের পাশবিকতা ও নির্মমতা শুনে উপস্থিত অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।





৯ তারিখ এক পর্যায়ে বুয়েট এলাম্নাই এসোসিয়েশন থেকে প্রতিনিধি দল এসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও বরেণ্য অভিনয়শিল্পী আবুল হায়াত বুয়েট অডিটোরিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর জাতীয় অধ্যাপক, প্রয়াত ডঃ জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের নেতৃত্বে মিডিয়ার সামনে এলাম্নাই এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ভিসি স্যারের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবি পেশ করা হয়।





এরই মাঝে সংবাদ আসে ভিসি স্যার কুষ্টিয়া রওনা হয়েছেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কারো সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ায় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এসময় স্যারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। স্যারের পিএস কল রিসিভ করেন এবং জানান স্যার এই মূহুর্তে কথা বলতে রাজি না। এই উত্তরের ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়। এমন সময় নিজেদের মধ্যে বৈঠক শেষে শিক্ষক সমিতির সদস্যরা ছাত্রদের সামনে আসেন। সেখানে শিক্ষক সমিতির সভাপতিসহ অন্যান্য শিক্ষকেরা মিডিয়ার সামনে কথা বলেন। এরপর ছাত্রকল্যাণ পরিচালক শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হন। সেখানে ছাত্ররা ৬ই অক্টোবর রাতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।





এদিকে ভিসি স্যার কুষ্টিয়া গিয়ে আবরারের কবর জিয়ারত করেন। সেখানে সংবাদমাধ্যম পুরো ঘটনায় তার নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি সুনির্দিষ্ট কোন জবাব দিতে ব্যর্থ হন। এরপর আবরার ফাহাদের ছোট ভাইয়ের সাথে ভিসি স্যারের কথোপকথনের সময় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, ভিসি স্যারের আগমনকে ঘিরে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করতে থাকে। এমন সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দৃশ্যপটে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আবির্ভাব ঘটে। আবরার ফাহাদের ছোট ভাই ও তার ভাবীর গায়ে পুলিশ হাত তুলেছে বলে আবরারের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভিসি স্যার আবরারের বাবা-মায়ের সাথে দেখা না করেই ঢাকায় ফিরে আসেন।





৯ তারিখের দিনের আলো ধীরে ধীরে পড়ে আসতে শুরু করে। সন্ধ্যার সময় অনুষ্ঠিত হয় আবরার স্মরণে বুয়েট শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন। মোমবাতির দৃপ্ত শিখার দিকে তাকিয়ে সবাই অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়, এই বন্ধুর পথ একত্রে পাড়ি দিতে হবে সুবিচার নিশ্চিতের জন্য।