৭ অক্টোবর, ২০১৯ - রাত

Share this


৭ই অক্টোবর সকাল থেকেই শেরে বাংলা হলে পুলিশ ছিলো এবং যতই সন্ধ্যা হচ্ছিলো পুলিশ ততই বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সময়ে প্রভোস্ট স্যার পুলিশ নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তখন হল অফিসে প্রভোস্টসহ বিভিন্ন স্যার, পুলিশের উচ্চপদস্থ দু'এক জন ছিলেন। কিন্তু ছাত্ররা ফুটেজ পাওয়ার আগে প্রভোস্ট স্যার কে এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসারদের হল ত্যাগ করতে না দেয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে।





সন্ধ্যার দিকে হলের ভিতরে হেলমেট, ভেস্ট পরিহিত অবস্থায় এবং লাঠি হাতে শতাধিক দাঙ্গা পুলিশ অবস্থান নেয়। এরচেয়েও বেশি সংখ্যক পুলিশ হলের গেটের বাইরে অবস্থান নেয়। তাদেরকে রেডি থাকতে এবং যেকোন সময় ডাকা হবে এই নির্দেশ দিতেও শোনা যায়। আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, হলে বুয়েট প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রবেশ করতে পারার কথা না, সেখানে দাঙ্গা পুলিশ হলে ঢুকে ছাত্রদের চার্জ করার প্রস্তুতি নিয়ে অবস্থান করছিল। পুলিশ কখনোই হলে বন্দি ছিল না, বা আটক ছিল না। তারা সম্পূর্ণ বাধাহীন ভাবে যাওয়া আসা করছিলেন, শুধুমাত্র হল অফিসে তাদেরকে ফোর্স নিয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়, কারণ শিক্ষার্থীদের দাবিকৃত ফুটেজের কপি তারা তখনো পায় নি। শেষে রাত ৮ টার দিকে একযোগে সকল পুলিশ চার্জ করে আসে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত বাধা পেয়ে তারা পিছু হটে হলের বাইরে যেতে বাধ্য হন। এরপর হলের গেট লাগিয়ে দেয়া হয়।





এর পরপরই পুলিশ বুঝতে পারে, ছাত্ররা প্রয়োজনে সারা রাত পাহারা দিবে, দরকারে নিজেদের রক্ত দিবে, কিন্তু ফুটেজ না উদ্ধার করে প্রভোস্ট স্যার এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কাউকে হল ত্যাগ করতে দিবে না। এমতাবস্থায় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় ফুটেজের কপি থানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল যেন থানা থেকে ফুটেজের কপি সংগ্রহ করে নেয়। এই প্রস্তাবে উপস্থিত সবাই অসম্মতি জানায়। অবস্থা বেগতিক দেখে, অবশেষে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজের এক কপি শিক্ষার্থীদের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর তারা বিনা বাধায় সকলে হল থেকে চলে যান।









এরপর শিক্ষার্থীরা আলোচনা করতে থাকে কিভাবে তাদের ভাইয়ের হত্যার বিচার নিশ্চিত করা যায়। এদিকে আবরারের জানাজার সময়ও ঘনিয়ে আসতে থাকে। অতঃপর রাত ৯ টা ৪৫ এ আবরারের জানাজা বুয়েট সেন্ট্রাল মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য ভিসি স্যার সেখানেও উপস্থিত হন নি। সারাদিন আন্দোলনে নিজেদের আবেগকে ধরে রাখা আবরারের অনেক বন্ধুকেও তখন ভেঙে পড়তে দেখা যায়। দেড় বছর ধরে একসাথে ক্লাস করা, একসাথে একই রুমে থাকা, একসাথে ট্যুর দেয়া বন্ধুকে এভাবে শেষ বিদায় জানানোর ব্যাপারটা কেউ মেনে নিতে পারছিল না। তবুও বুকে পাথর রেখে একদিকে যেমন সবাই আবরারকে বিদায় জানাচ্ছিল, তেমনি আবরারের হত্যাকারীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিজ্ঞা করছিল মনে মনে।





জানাজার পর বুয়েট ক্যাম্পাসে সাধারন শিক্ষার্থীরা মিছিল করে। এরপর সিদ্ধান্ত হয় যে, পরের দিন সকাল ১০ টায় সময় সবাই বুয়েট ক্যাম্পাসে একত্রিত হবে এবং আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে। আর এর মধ্যে দিয়েই সমাপ্তি ঘটে বুয়েটের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত দিনগুলোর একটির।