৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

Share this


প্রায় দুই মাস ধরে ধরে পুনঃ পুনঃ আলোচনা সভায় বসতে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে র‍্যাগিং এর বিচার এবং নীতিমালার ব্যাপারে যথাযথ দৃশ্যমান পদক্ষেপের দেখা পাওয়া যাচ্ছিলো না। ৪ ডিসেম্বর সকালবেলা শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয় পূর্বে উল্লেখিত তিনটি দাবির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করতে। ভিসি মহোদয়ের সাথে সাক্ষাতের জন্য অফিসে উপস্থিত হলে দেখা যায় সকল দরজা বন্ধ। ফলস্বরূপ, শিক্ষার্থীরা অফিসের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে। ইতোমধ্যে মিডিয়া উপস্থিত হয়ে যায় ঘটনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানার জন্য। 





এ সময় বুয়েটের সকল অনুষদের ডীন স্যারবৃন্দ এবং উপাচার্য মহোদয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে আসেন। তারা জানান আবাসিক হলের র‍্যাগিং এর বিচার শেষের দিকে এবং শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক শাস্তির নোটিশ শিক্ষার্থীরা পেয়ে যাবে। তারা ০২ ডিসেম্বর প্রকাশিত র‍্যাগিং এর শাস্তির নীতিমালাগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যা দেন।একইসাথে আরও জানান, এরপর থেকে বুয়েটের নবাগত শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় একটি নতুন সম্মতিপত্র সাক্ষর করতে হবে, যেখানে বুয়েটের আচরণবিধি এবং তা লঙ্ঘন করলে সম্ভাব্য শাস্তির ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। উপরন্তু একটি নিরাপদ ক্যাম্পাসের প্রয়োজনে চলমান শিক্ষার্থীরাও এধরণের সম্মতিপত্রে সাক্ষর করতে রাজি আছে বলে তৎক্ষনাৎ মতপ্রদান করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলোর বাস্তবায়ন এবং অবশিষ্ট দাবিগুলো, যেমন ছাত্র রাজনীতি করলে সুনির্ধারিত শাস্তি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্তিকরণ, এর ব্যাপারে বুয়েট প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাস মেনে নেওয়া হয়। বুয়েটের শিক্ষাকার্যক্রম দ্রুত সচল করার লক্ষ্যে ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ থেকে সকল বিভাগের পরীক্ষা শুরু করার ব্যাপারে সকলে একমত হন। আবরার ফাহাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং মামলায় সহযোগিতা করার ব্যাপারে বুয়েট প্রশাসন দ্রুতই পদক্ষেপ নিবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 





বুয়েটের সমস্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই ভাইয়ের হত্যার বিচারে অনড় অবস্থান নেওয়া সম্ভব হয়, সম্ভব হয় পরবর্তী ব্যাচগুলোর জন্য একটি নিরাপদ ক্যাম্পাসের প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেওয়ার। বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীবৃন্দ আন্দোলনের পুরো সময় সকল প্রকার সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে পাশে থেকেছেন, তারা দেশ বিদেশ থেকে এই নির্মম হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে একত্রিত হয়েছেন। দেশবাসীর আন্তরিক সহমর্মিতা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বশীলতা এবং বুয়েট প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমেই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হয়। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ ছিলো বুয়েটের প্রতিটি শিক্ষার্থীর, প্রত্যেকের মতামত এর প্রতিফলন ঘটেছে এই পুরো সময়ে। ক্যাম্পাসের সকলের অংশগ্রহণে, সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে যেকোন বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে সংঘটিত এই অহিংস আন্দোলন একটি উদাহরণ হয়ে থেকে যাবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে। এই একতা বজায় রাখলে কখনোই কোনো অপশক্তি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। দ্রুত এবং সুষ্ঠুভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ব্যাপারে বিচারবিভাগের প্রতি আমরা আস্থাশীল। এই মামলাটি হবে দেশের অন্য যেকোন ক্যাম্পাসের অপরাজনীতির সামনে দৃষ্টান্ত। যাতে আর কোনো আবরার ফাহাদকে নৃশংসতার শিকার না হতে হয়, সকল শিক্ষার্থীর নির্বিঘ্ন শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশায় অপেক্ষায় থাকব আমরা।