২ নভেম্বর, ২০১৯

Share this


দাবী মানার ব্যাপারে নোটিশে প্রতিশ্রুতি আর ১৬ অক্টোবর শপথের মধ্যদিয়ে রাস্তার আন্দোলনের বন্ধ হলেও, দাবীগুলোকে বাস্তবে রূপান্তর করার জন্য ভারপ্রাপ্ত ডিএসডব্লিউ বাসিথ স্যারের সাথে এবং ডিএসডাব্লিউ মিজান স্যার দেশে আসার পর উনার সাথে দুইদিন ছাত্রছাত্রীদের প্রতিনিধিরা আলোচনা করে। ওই আলোচনায় বার বার দ্রুত দাবী বাস্তবায়নের চাপ দিলেও উনি ভিসি স্যার, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল এর কথা বলে বিভিন্ন ভাবে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলেন এবং আস্তে আস্তে আমাদের উপরও চাপ দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। এমতাবস্থায় ভিসি স্যার সহ সব স্টুডেন্টরা মিলে আরেকটা ফরমাল মিটিং এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।আমাদের দাবী ছিলো মিটিং টা যাতে আবার অডিটোরিয়ামে হয়, কিন্তু ভিসি স্যার কোনভাবেই রাজি না। উনার প্রস্তাব ছিলো আমাদের ১০-২০ জনের প্রতিনিধি উনার রুমে দেখা করবে, পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা থেকে আমরাও সেই প্রস্তাবে রাজি হইনি। শেষ পর্যন্ত অথোরিটি থেকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ভবনে আমাদের ১২০ জন নিয়ে মিটিং করার প্রস্তাব দিলে সব দিক বিবেচনা করে রাজি হই। সেই প্রেক্ষিতে ২ নভেম্বর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ভবনে সব ব্যাচ, ডিপার্টমেন্ট,হল মিলিয়ে ছাত্রদের প্রায় ১২০ জন প্রতিনিধি, ভিসি স্যার, ডিএসডাব্লিউ, বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ডীন স্যারদের নিয়ে মিটিং ঠিক হয়৷ দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২ঃ৩০ এর দিকে মিটিং শুরু হয়৷ 





ওইদিন ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে ঠিক করে দেওয়া দাবীগুলো থেকে বাস্তবায়ন না হওয়া সব দাবী থাকলেও কয়েকটা দাবীর উপর খুব জোর দেয়া হবে বলে ঠিক করা হয়। সেগুলো হলোঃ- 





১)খুনীদের সবার নাম, আইডিসহ স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের নোটিশ যাতে দ্রুত দেয়া হয়।





২) সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধের অফিসিয়াল নোটিশ আসা। তাতে একদম পুংখানুপুংখ ভাবে কি ধরণের কাজের জন্য কি কি শাস্তি সেটা যাতে উল্লেখ থাকে। আর বুয়েটে অর্ডিন্যান্স এ যাতে সেটা যোগ করা হয়।





৩) আগের র‍্যাগিং এর বিচার দ্রুত শেষ করা।





৪) আবরারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ আর মামলার খরচ বুয়েট চালানোর প্রসংগে।





মিটিং এর শুরুর দিকে স্যারদের পক্ষ থেকে কিছু ব্যাপারে আন্তরিকতা দেখা যায় যেমন স্যাররা আশ্বস্ত করেন খুব দ্রুতই তাদের স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ আসবে। ওই আদেশের প্রক্রিয়াকে নির্ভুল করতেই সময় নেয়া হচ্ছে। কিন্তু অন্যান্য ব্যাপার আগের মতই শুধুই মৌখিক আশ্বাস আসতে থাকে। অডিন্যান্সের ব্যাপারে বলা হয় ব্যাপার‍টা অনেক দীর্ঘ এবং ওতটা গুরুত্বপূর্ণও না। কিন্তু আমরা এই ব্যাপারে আগের জায়গায় অনড় থাকি যে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধ ও সুনির্দিষ্ট অপরাধের জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তির নোটিশ ছাড়া আমাদের এই দাবীটা পূরণ হবে না। এরপর থেকেই আসলে মিটিং কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠে। মিজান স্যার সহ অন্য স্যাররা তাড়াতাড়ি ক্লাস শুরুর জন্য প্রেশার দিতে থাকে। একটা সময় এমন মনে হতে থাকে উনারা আমাদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছেন। র‍্যাগিং এর শাস্তির ক্ষেত্রে আগের তিনটি ঘটনায় ঢালাও ভাবে অনেক বেশি শাস্তি দিয়ে অন্য গুলা বাদ দিতে চান। সেখানেও আমরা আপত্তি জানিয়ে আসি আমরা যথার্থ শাস্তি চাই যে যেই অপরাধ করেছে তার সেই অপরাধের ভিত্তিতে।





আর আবরারের মামলার খরচ ও পরিবারকে ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে অথোরিটি থেকে জানানো হয় বুয়েট সব রকমের সাহায্য করতে প্রস্তুত আবরারের পরিবার থেকে যোগাযোগ করলেই হবে। কিন্তু আমাদের দাবী ছিলো বুয়েট নিজে থেকে আবরারের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার জন্য। 





প্রায় তিন ঘন্টার আলোচনার পর সাধারণ স্টুডেন্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয় তিনটা দাবীর বাস্তবায়ন হলে সবাই আবার অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে ফিরে যেতে রাজি হবো।সেই তিন দাবী হলোঃ-





১) অনতিবিলম্বে সব খুনীদের নাম আইডি সব স্থায়ী বহিষ্কারাদেশের নোটিশ





২)সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ মর্মে নোটিশ এবং ঠিক কি কি অপরাধের জন্য কি কি শাস্তি সেটা সুনির্দিষ্টভাবে সেই নোটিশে উল্লেখ থাকতে হবে।





৩)আগের র‍্যাগিং এর ঘটনার মধ্যে তিনটি ঘটনার (আহসানউল্লাহ হল, সোহরাওয়ার্দী হল ও তিতুমীর হল) মীমাংসা করা।





যেই আশা থেকে এই মিটিং ছিলো সেই দিক থেকে বলতে গেলে সাধারণ স্টুডেন্ট এবং প্রশাসন কোন দিক থেকেই আসলে খুব একটা মতানৈক্যে পৌঁছানো যায়নি। উপরন্তু শেষ দিকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য চাপ প্রদান আর প্রচ্ছন্ন হুমকি দেয়ার কারণে স্টুডেন্টদের মনে কিছুটা চাপা ক্ষোভেরও জন্ম নেয়।