১৩ অক্টোবর, ২০১৯

Share this


১২ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আসন্ন ভর্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে ১৩ এবং ১৪ অক্টোবর, দুইদিনের জন্য আন্দোলন শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এসময়ে শিক্ষার্থীরা জানান যে তারা সুষ্ঠভাবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করার জন্য সকল ধরণের সহযোগিতা করবেন। বিগত বছরগুলোতে বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক এসোসিয়েশন তাদের নিজস্ব টেবিল নিয়ে বুথ বসানোর ব্যবস্থা করত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারকে যেকোন ধরণের সহযোগিতা করার জন্য। একইসাথে প্রতি বছর বুয়েট ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের পানি বিতরণের ব্যবস্থা করা হত। যেহেতু এই বছর বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধ, তাই ক্যাম্পাসের সিনিয়র মোস্ট ব্যাচ পৌনঃপুনিক ১৫ থেকেই "অনুরূপ" কাজের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তগুলি নেয়া হয়ঃ





১। তিতুমীর হলের পকেট গেট থেকে সোহরাওয়ার্দী হল পর্যন্ত বুয়েটের আঞ্চলিক এসোসিয়েশনগুলোর টেবিল বসবে। আকারে যেসব এসোসিয়েশন বড় তারা ২টা টেবিল নিবে, যাদের আকার ছোট তারা টেবিল শেয়ার করবে।





২। পলাশী ক্যাম্পাসে ভীড় কমানোর জন্য এসোসিয়েশনগুলোর একত্রিত হয়ে বসা হবে না। 





৩। মোট ১৯টা টেবিলে কারা বসছে সেটার লিখিত কাগজ/ব্যানার টেবিলে থাকবে। 





৪। প্রতিবারের মতই এসোসিয়েশনগুলো নিজ নিজ ইনফরমেশনাল বুথ করবে। বুথগুলো অতিরিক্ত ক্যালকুলেটার, কলম নিয়ে প্রস্তুত থাকবে যেন চাহিবামাত্র ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের দিয়ে সাহায্য করা যেতে পারে। কেউ ব্যাগ মোবাইল পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে জমা রাখতে চাইলে সেটাও করতে পারবে।





যেহেতু ক্যাম্পাসে কোনো সাংগঠনিক রাজনীতি থাকবে না তাই তাদের পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অপেক্ষমান অভিভাবক এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য পানি বিতরণ করবে। এ উদ্দেশ্যে চলমান ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা তোলার ব্যবস্থা করা হয় এবং অতিরিক্ত টাকা পরবর্তীতে আন্দোলনের খরচে ব্যয় করা হবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।





৫। আবরার ফাহাদের অকাল মৃত্যুতে শোক এবং সহমর্মিতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে উপস্থিত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে গণ স্বাক্ষর নেয়া হবে।





এলাকাভিত্তিক এসোসিয়েশনগুলোর বুথ বসানোর জন্য বেশ কাঠামোগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী ১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ইং তারিখ রাতেই এলাকাভিত্তিক এসোসিয়েশনগুলোর বুথ বসানো হয়। কিন্তু ১৩ তারিখ রাতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবগুলো এলাকাভিত্তিক এসোসিয়েশনের টেবিল এবং বুথ তুলে দেয়া হয়। তুলে দেয়ার কারণ হিসেবে প্রশাসন থেকে জানানো হয় যে যেহেতু সকল ধরণের সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ, তাই বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত ক্লাবগুলো ব্যতীত কোন ধরণের শিক্ষার্থীদের সংগঠন বুয়েটে নিষিদ্ধ। যেহেতু কোনো এলাকাভিত্তিক সংগঠনই বুয়েটে ছাত্রকল্যাণ পরিষদকর্তৃক অনুমোদিত নয়, তাই নিষিদ্ধ এই সংগঠনগুলোর কোনোরকম বুথ বা টেবিল ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের সাহায্যের উদ্দেশ্যে বসানো যাবে না। তাই বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এলাকা ভিত্তিক সংগঠনের ব্যানারে বুথ বসানো থেকে সরে আসে। বরং তারা নিজ উদ্যোগে পরীক্ষার্থী এবং অপেক্ষমান অভিভাবকদের পানির বোতল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়।