১০ অক্টোবর, ২০১৯

Share this


এই দিনটার শুরু হয় আগের দুই দিনের মতোই। শিক্ষার্থীরা সকাল থেকেই তাদের ভাইয়ের হত্যার বিচারের জন্য ক্যাম্পাসের সামনের রাস্তায় সমবেত হয়। কেউ হয়তো দেয়ালে আলপনা আঁকছিল, কেউ হয়তো আন্দোলনের মাঝে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছিলো, কেউ কেউ হয়তো ভাই হারানোর বেদনায় আড়ালে চোখের পানি ফেলছিলো। তবে সবার মনে সবচেয়ে বড় যে চিন্তাটা ছিলো, তা হচ্ছে, "কখন হবে ভিসি স্যারের সাথে মিটিং"।





সকাল আন্দোলনমুখর কাটার পর, বিকালে ঝুম বৃষ্টি নামে। এই বৃষ্টি যেন সবার মাঝে কিছুটা কোমল পরশ নিয়ে আসে। আসরের নামাজের পর বুয়েটের কেন্দ্রীয় মসজিদে আবরারের জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।





শেষ বিকেলে ভিসি স্যারের পিএস এবং মেকানিকাল ডিপার্টমেন্টের আরিফ হাসান মামুন স্যার ছাত্রদের সাথে দেখা করতে আসেন। তিনি জানান ভিসি স্যার ছাত্রদের সাথে দেখা করতে সম্মত হয়েছেন। কিন্তু প্রথমে স্যার জানান যে, ভিসি স্যার তাঁর কার্যালয়ে সব ব্যাচ মিলিয়ে মাত্র ২০-৩০ জনের সাথে প্রেসের অনুপস্থিতিতে  দেখা করবেন। কিন্তু এতে সম্মত না হলে তিনি ১২০ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে একাডেমিক কাউন্সিলে ভবনে মিটিংয়ের প্রস্তাব দেন। শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের দাবি ছিলো সংবাদমাধ্যম এবং সকলের উপস্থিতি ছাড়া কথা বলা হবে না। কারন প্রত্যেক ছাত্রের অধিকার আছে, বুয়েটে তার ভাইয়ের হত্যা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানার। কিন্তু নেগোসিয়েশনে আরিফ স্যার অটল থাকেন মিডিয়া ছাড়া রুদ্ধদ্বার বৈঠক করার।





ঐদিকে শিক্ষার্থীরাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় মিডিয়ার উপস্থিতি ছাড়া মিটিং হবে না। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ খবর আসে মিডিয়াকে ভিসি স্যারের পিএস জানিয়ে দিয়েছেন পরেরদিন শিক্ষার্থীরা মিটিংয়ে বসছে। শিক্ষার্থীদের কোন মতামত না নিয়ে মিডিয়াকে জানানোয় ঐ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্যার রাজি হয়ে যান মিডিয়ার উপস্থিতিতেই অডিটোরিয়ামে বসার। তবে শর্ত জুড়ে দেন 





- কোন লাইভ স্ট্রিমিং চলবে না
- মিডিয়া কোন প্রকার প্রশ্ন করতে পারবে না
- সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে ভিসি স্যারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে 





শিক্ষার্থীরা ভিসি স্যারের নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে স্যারেরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। 





ভিসি স্যারের পিএস চলে যাওয়ার পর, শিক্ষার্থীরা বিবিধ সিদ্ধান্ত নেয় ভিসি স্যারের নিরাপত্তার জন্য। যেমন, অডিটোরিয়াম এ সবাইকে চেক করে ঢোকানো হবে, সবাই অবশ্যই আইডি কার্ড সাথে রাখবে, অডিটোরিয়াম এর সামনে চারটি গ্রুপে চার ব্যাচেরই কয়েকজন করে থাকবে এবং তারাই তাদের ব্যাচের ছাত্রদের পরিচয় নিশ্চিত করবে ইত্যাদি। আলাদা এক টেবিলে মিডিয়াদের পরিচয় ও সিকিউরিটি কনফার্ম করা হবে।





সব নিশ্চিত হওয়ার পর সবার মনে একটা ব্যাপারই চলতে থাকে, "আমরা আমাদের ভাইয়ের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে পারবো তো?"





এই চরম দুশ্চিন্তা আর উৎকন্ঠার মধ্যেই রচিত হয়, আবরার হত্যা-আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পটভূমি।